মাওলানা মামুনুল হকের সাম্প্রতিক লেখার সমালোচনা করে উলামায়ে কেরামের নেতৃত্ব, ইসলামি রাজনীতি এবং শরিয়াহর সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে নিজের উদ্বেগ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করিম মারুফ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, উলামায়ে কেরামের জ্ঞান, আমল ও মর্যাদা স্বীকার করার পাশাপাশি রাজনীতি ও কূটনীতিতে তাঁদের নেতৃত্বকে সীমাবদ্ধ করে দেখার প্রবণতা সেক্যুলার চিন্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

উলামাদের নেতৃত্ব সীমিত করার চিন্তা নিয়ে আপত্তি
ফজলুল করিম মারুফ তাঁর পোস্টে বলেন, উলামায়ে কেরামের ইলমি নেতৃত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার পরও রাজনীতি ও কূটনীতির ক্ষেত্রে তাঁদের নেতৃত্বকে সীমিত পরিসরে দেখার চিন্তা তাঁকে উদ্বিগ্ন করেছে।
তিনি মনে করেন, ইসলাম ও রাজনীতিকে পৃথক পরিসরে বিবেচনা করার প্রবণতা সেক্যুলার চিন্তার প্রতিফলন। মামুনুল হকের লেখাগুলো পড়ে তিনি কষ্ট পেয়েছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ইসলাম ও শরিয়াহকে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার প্রবণতা গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মনে করেন।
ইসলামি রাজনীতিতে উলামাদের নির্দেশনার গুরুত্ব
আধুনিক রাজনৈতিক কাঠামো ও ইসলামি চিন্তাধারার সম্পর্ক তুলে ধরতে ফজলুল করিম মারুফ তাঁর পোস্টে তিউনিসিয়ার ইসলামি চিন্তাবিদ রাশিদ আল-গানুশীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আধুনিক রাজনীতি নিয়ে আলোচনা ও চর্চার মধ্যেও ইসলামি রাজনীতিতে উলামাদের দিকনির্দেশনার গুরুত্ব অস্বীকার করা উচিত নয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি নোয়াহ ফেল্ডম্যানের The Fall and Rise of the Islamic State বইটি পড়ার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, ইসলামি রাষ্ট্রচিন্তার ইতিহাস ও বিকাশ বুঝতে এ ধরনের গ্রন্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মওদুদীর চিন্তাধারা নিয়েও সমালোচনা
নিজের পোস্টে আবুল আ’লা মওদুদীর চিন্তাধারা নিয়েও সমালোচনা করেন ফজলুল করিম মারুফ। উলামাদের নেতৃত্ব ও নির্দেশনার প্রশ্নে মওদুদীর অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের ইসলামি চিন্তাবিদদের মধ্যে সমালোচনা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি দেওবন্দি আলেমদের পাশাপাশি রাশিদ আল-গানুশী, হাসান আল-তুরাবী এবং ইখওয়ান-সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের কথাও উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে ইসলামি নির্দেশনা
পোস্টের শেষাংশে ফজলুল করিম মারুফ বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে সেই মতপার্থক্যের কারণে ইসলাম ও রাজনীতিকে সম্পূর্ণ পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
তিনি মাওলানা মামুনুল হকের প্রতি ইসলামি রাষ্ট্রচিন্তায় উলামায়ে কেরামের নির্দেশনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পোস্টের মন্তব্যে কটূক্তি না করার বিষয়েও সতর্ক করেন।
উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনটি ফজলুল করিম মারুফের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি। এতে উল্লিখিত সমালোচনা, বিশ্লেষণ ও ঐতিহাসিক মূল্যায়ন তাঁর নিজস্ব মতামত। এ প্রতিবেদন তৈরির সময় মামুনুল হকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।