সৌদি আরবে হোটেল থেকে মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসিমিকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় তাঁর স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে অবস্থিত জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুমের ৪৫ জন শিক্ষক ও আলেম পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে নয়জন আহত হন এবং মুফতি মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদর নিহত হন বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দলের অন্য সদস্যরা প্রাণে বেঁচে যান।

ওমরাহ যাত্রীদের অবস্থা জানিয়ে লাইভে আসেন কাসিমি
সৌদি আরবে হামলার ঘটনার পর দলের সদস্যদের অবস্থা সম্পর্কে অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অবহিত করতে লাইভে আসেন মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসিমি। ওই লাইভে তিনি দলের সদস্যদের বেঁচে থাকার খবর জানান এবং তাঁদের সুস্থতার বিষয়ে কথা বলেন।
লাইভের পর হোটেল থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, লাইভ সম্প্রচারের পর সৌদি আরবে যে হোটেলে মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসিমি অবস্থান করছিলেন, সেখান থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশ নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না এবং তাঁর অবস্থান সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে। তবে তাঁকে কোন কর্তৃপক্ষ নিয়ে গেছে, কী কারণে তাঁকে নেওয়া হয়েছে এবং লাইভ সম্প্রচারের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা
মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসিমির বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি উদ্যোগ কামনা করা হচ্ছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া, তাঁর নিরাপত্তা যাচাই করা এবং তাঁকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের দাবি জানিয়েছেন তাঁর স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
পাশাপাশি, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে তাঁর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা যায়