প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ ও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যাদুরচর মাদরাসায় হামলাকারী মেয়েটির পরিবারকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী। গত ১৫ অক্টোবর মাদরাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর প্রশাসনের মধ্যস্থতায় এবং হামলাকারীদের বারবার ক্ষমা প্রার্থনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মাদরাসাটির মিডিয়া কর্মকর্তা শিক্ষক মুফতি আব্দুল্লাহ ফিরোজী ৩৬ নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, যাদুরচর মাদরাসার বালিকা শাখা ‘হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রা. বালিকা মাদরাসা’-র এক আবাসিক ছাত্রী মায়ের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে স্বেচ্ছায় মাদরাসা থেকে চলে যায়। পরবর্তীতে মেয়েটির পরিবার ৪০-৫০ জন ভাড়াকরা লোক ও কয়েকজন দুর্বৃত্তকে সঙ্গে নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর মাদরাসায় হামলা চালায়। এ সময় এলাকাবাসী ও পাশের মাদরাসার ছাত্ররা এগিয়ে এসে আবাসিক ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও মাদরাসার সম্পদ রক্ষা করে।
এরপর গত ১৯ অক্টোবর মেয়েটিকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং মাদরাসা কতৃপক্ষ পূর্বের হামলার ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। তবে হিতাকাঙ্ক্ষীদের অনুরোধ ও পরিবারের পক্ষ থেকে দফায় দফায় ক্ষমা প্রার্থনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় মেয়েটির পিতা মাদরাসার বড় হুজুর হাফেজ মাওলানা আলী আকবর কাসেমীর পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
এ বিষয়ে মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী জানান, বড় হুজুর দরাজ দিলের অধিকারী একজন বুজুর্গ আলেম। প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন, আমরাও ক্ষমা করে দিলাম। প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, ভবিষ্যতে কেউ যাদুরচর মাদরাসা বা এর কোনো শাখার দিকে চোখ তুলে তাকালে এলাকাবাসী ও ছাত্ররা এর সমুচিত জবাব দেবে। এছাড়া দেশের অন্যান্য মাদরাসা পরিচালনাকারীদেরও যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় যুবক ও ছাত্রদের সমন্বয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।