দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে আয়োজিত ‘গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ না পায়। বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণে শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের সাধারণ মানুষ।
জাতীয় সংসদে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নের পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে। বিরোধী দল বা অন্য কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার অনুরোধ জানান।
জনগণের কল্যাণে সরকারের পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ সরকারকে নির্বাচিত করেছে। তাই জনগণের পাশে থাকা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দেশের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা, সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ১৬ আগস্ট থেকে এর মূল কার্যক্রম শুরু হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের প্রধান নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ কৃষকের পাশাপাশি লবণ চাষীরাও এর সুবিধা পাবেন। লবণ চাষীদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে নতুন মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক করিডোর করার পরিকল্পনা
চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম, মহেশখালী ও মীরসরাই অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করা হবে।
চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠলে বিপুলসংখ্যক তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উপজেলা হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে থাকা ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ আরও উন্নত ও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কারের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের কথা জানান তিনি।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি
এর আগে রোববার দুপুরে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের হাতে নতুন টিনের ঘরের চাবি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। নতুন বাড়ির আঙিনায় একটি মেহগনি গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। পাশাপাশি পরিবারটির জন্য চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও হাঁস-মুরগি প্রদান করা হয়।
গত ৭ জুলাই থেকে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাঁশখালীর বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে বহু মানুষের ঘরবাড়ি, পুকুর, জলাশয় ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহর সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে।