মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো মুহূর্তে ইরানে আবারও সামরিক হামলা চালাতে পারে। তবে একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে একটি ‘বিশাল ও সুন্দর’ চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রেখেছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ট্রাম্পের এমন বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছি, এবং হয়তো আগামীকালই এটি হতে পারে।’
তবে ইরানে হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি তিনি। বরং এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি হামলা চালাব কি না, তা কি আপনাদের সত্যি সত্যি বলে দেব?’
চুক্তির মাধ্যমে হামলা এড়ানোর সুযোগ
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে ইরান সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে পারে। তবে তেহরান কোনো চুক্তিতে পৌঁছালেও সেটি বাস্তবায়ন করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ইরান চুক্তি করতে চায়। কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো, তারা সেই চুক্তি মেনে চলবে কি না।
ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিকে নিজের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন ট্রাম্প। এর আগে মার্কিন বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে পরিচালিত সামরিক অভিযানও এই লক্ষ্য স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাকে এই সমাধানটি স্থায়ী করতে হবে। এটিই আমার পদক্ষেপ নেওয়ার একমাত্র কারণ।’
সামরিক অভিযান নাকি কূটনৈতিক সমাধান?
পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ঘোষণা না দিলেও সামরিক শক্তি প্রয়োগ ও কূটনৈতিক সমঝোতা—দুই পথই খোলা রেখেছেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, ইরানকে নিয়ে পরিস্থিতির চূড়ান্ত সমাধান করতে হবে, অথবা তেহরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘যেভাবেই হোক না কেন, জয় আমাদেরই হবে।’
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন নিয়েও মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার দাবি, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহন বেড়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরেননি।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তির একটি কাঠামো তৈরি হলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো অধরা।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালাবে, নাকি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
: ইরান, ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, ইরানে হামলার হুমকি, আন্তর্জাতিক সংবাদ