ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন, ইখলাস, বিনয় এবং শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা আমিরুল মুমিনীন শাইখুল হাদিস মাওলানা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা, অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী আমল করা এবং তা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে আফগানিস্তানের কান্দাহারে জিহাদি মাদরাসায় আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা জ্ঞানকে মহান আল্লাহ তাআলার একটি সিফাত হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্ঞান অর্জন আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করা, সংস্কার প্রতিষ্ঠা এবং ঈমান-আকিদা সংরক্ষণেও ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি বলেন, ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষাদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা আলেম-ওলামা এবং সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আলেমরা নবীদের উত্তরাধিকারী হিসেবে ধর্মীয় বিধিবিধান, ফতোয়া ও ইসলামী আইন মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
দুনিয়াবি স্বার্থ নয়, জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্য হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আফগান আমিরুল মুমিনীন বলেন, সামাজিক স্বীকৃতি, মর্যাদা কিংবা দুনিয়াবি সুযোগ-সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্যে নয়; বরং দ্বীনকে সঠিকভাবে বোঝা এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনার নিয়তে জ্ঞান অর্জন করা উচিত। তিনি ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনকে আল্লাহর পথে জিহাদের অংশ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, অর্জিত জ্ঞান কেবল নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং অন্যদের কাছেও তা পৌঁছে দিতে হবে। জ্ঞানকে আমানত হিসেবে বিবেচনা করে মানুষের কাছে ধর্মীয় শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালনের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
পড়াশোনা অব্যাহত রাখা ও বিনয়ী হওয়ার আহ্বান
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ছেড়ে না দিয়ে জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান মাওলানা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। অন্যদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে অহংকার ও আত্মগর্ব পরিহার করার পরামর্শও দেন তিনি।
তাঁর মতে, আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরও ফিকহ ও অন্যান্য জ্ঞানবিষয়ক বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রয়োজন। এসব বৈঠক জ্ঞান বিনিময় এবং পরস্পরের কাছ থেকে শেখার সুযোগ তৈরি করে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ দায়িত্বের বিষয়ে তিনি দুনিয়াবি পদ-পদবি ও মর্যাদার প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগী না হওয়ার পরামর্শ দেন। বর্তমান শিক্ষাজীবনকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময় হিসেবে উল্লেখ করে এ সময়ে সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে চলার ওপর জোর দেন তিনি।
শিক্ষকদের সম্মান করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব
বক্তব্যে শিক্ষকদের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন আফগান আমিরুল মুমিনীন। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদের গভীরভাবে সম্মান করা এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক পিতার মর্যাদায় দেখার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিনয়ী থাকা, নিজেদের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সহপাঠীদের মূল্যায়ন করা এবং মাদরাসার নিয়মকানুন মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি।