রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি বিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত ধাপ অতিক্রম করেছে।
‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের বিলটি মঙ্গলবার প্রতিনিধি পরিষদে ২১৪-২১১ ভোটে প্রক্রিয়াগত অনুমোদন পায়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিলটির চূড়ান্ত ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত মাসে মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস হয়।

প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনে সহায়তাকারী ‘ছায়া বহর’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিলটিতে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি করা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত একটি সংশোধনীতে সম্ভাব্য শুল্কের আওতায় থাকা ১০টি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। দেশগুলো হলো—ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান।
তবে বিলটির বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস। তাঁর বক্তব্য, বিলটি প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষমতা দিচ্ছে এবং এর ওপর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ থাকবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বাণিজ্য ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অর্থায়নে সহায়তা করছে। এ কারণে রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ওয়াশিংটনে ইউক্রেনপন্থি সংগঠনগুলোও মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ‘ইউক্রেন অ্যাকশন সামিট’-এর মাধ্যমে ইউক্রেনকে অব্যাহত সমর্থনের পক্ষে আইনপ্রণেতাদের কাছে প্রচার চালানো হচ্ছে।
প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হলে তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিনিধি পরিষদের আগাম অবকাশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স