আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধা দেওয়া হলে তা প্রতিহত করে কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জোটের নেতারা এ ঘোষণা দেন।

ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
জোটের নেতারা বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হওয়া এবং সংবিধান সংস্কার নিয়ে সরকারের কার্যক্রমে নানা অসংগতি রয়েছে। তাদের দাবি, সরকার গঠনের ছয় মাস পার হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তারা অভিযোগ করেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হচ্ছে। সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের পথে এগোলে তা সরকারের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না বলেও সতর্ক করেন তারা।
সারাদেশে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা
১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা জানান, ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে বড় ধরনের জনসমাবেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু হবে। পথে বিভিন্ন স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লংমার্চ ও কর্মসূচি পালন করা হবে।
তাদের ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনসহ বিভিন্ন দাবিতে এই আন্দোলন পরিচালিত হবে।
সরকারের কার্যক্রমের সমালোচনা
ব্রিফিংয়ে সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের সমালোচনা করে জোটের নেতারা দাবি করেন, সরকারের ১৮০ দিনের অব্যবস্থাপনায় জনভোগান্তি বেড়েছে। তাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, কৃষকের সারসংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই বলেও মন্তব্য করেন তারা।
পররাষ্ট্রনীতি ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি নিয়েও অভিযোগ
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিরোধী মতের ছাত্রসংগঠন ও ছাত্রসংসদের নেতাদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে এবং এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দলীয়করণের অভিযোগও করেন জোটের নেতারা। নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে তারা এর সমালোচনা করেন।
বাধা এলে প্রতিহতের ঘোষণা
লংমার্চ কর্মসূচি সম্পর্কে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক কর্মসূচি। ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধা দেওয়া হলে তা প্রতিহত করে সামনে এগিয়ে যাওয়া হবে।
তারা দেশবাসীকে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।