সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া মক্কা চুক্তিকে মুসলিম বিশ্বের জন্য উপকারী বলে মন্তব্য করেছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মক্কা চুক্তি, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে কথা বলেন।

মক্কা চুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মাওলানা জাবিহুল্লাহ বলেন, এ চুক্তি নিয়ে আফগানিস্তানের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো নিজেদের স্বার্থ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতেই এ ধরনের চুক্তিতে পৌঁছায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “সৌদি আরবের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক ও পাকিস্তানও গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশ।”
মুজাহিদের ভাষ্য অনুযায়ী, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমঝোতা সামগ্রিকভাবে মুসলিম বিশ্বের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, “তারা কোনো বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছালে আমরা সেটিকে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা হিসেবে দেখি। সামগ্রিকভাবে এটি মুসলিম বিশ্বের জন্য উপকারী।”
মক্কা চুক্তিকে আফগানিস্তানের জন্য কোনো হুমকি হিসেবে দেখছেন না বলেও জানান ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র। তিনি বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের শত্রুতা নেই। ফলে এ চুক্তির কারণে আফগানিস্তানের নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখছেন না তারা।
সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয়ও উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, সাম্প্রতিক যে আগ্রাসনের ঘটনা ঘটেছে, তার সূচনা পাকিস্তানের পক্ষ থেকেই হয়েছিল বলে তাদের দাবি। তবে বিষয়টিকে স্থানীয় সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমি আগেও বলেছি, সম্প্রতি যে আগ্রাসন হয়েছে, সেটি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছিল। তবে আমরা এটিকে স্থানীয় একটি বিষয় হিসেবে দেখি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বিষয়টির সমাধান চাই।”
মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ আরও বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান—এই তিন দেশের কাউকেই আফগানিস্তান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে না।
সূত্র: আরটি ইন্ডিয়া