নিজস্ব প্রতিবেদক | ময়মনসিংহ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম মুবিন খান গৌরব। তিনি বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক ছাত্র।
বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হাতে দাবিসংবলিত পোস্টার বহন করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য বা কটূক্তি করা হয়েছে বলে তারা জানতে পারেন। বিষয়টি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তের ছাত্রত্ব বাতিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এদিকে, হল সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি জানার পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি হল ত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অভিযোগটি তদন্ত এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।