মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিদেশি বাহিনীর পরাজয় ও আফগানিস্তান থেকে তাদের প্রস্থান-এর পাঁচ বছর পর দেশটিতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এ সময়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী, বিদ্রোহী নেটওয়ার্ক ও বিভিন্ন অপরাধচক্রের তৎপরতা মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে আফগানিস্তানের বর্তমান প্রশাসন।
২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিদেশি বাহিনী চলে যাওয়ার পর দেশটিতে নতুন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরপরই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং নিরাপত্তা সংকট প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষ করে দায়েশ-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও নাশকতার মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। বাজার, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকাকে লক্ষ্য করে সংঘটিত হামলার কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বেশ কয়েকবার জটিল হয়ে ওঠে।
এসব তৎপরতা মোকাবিলায় দেশজুড়ে অভিযান জোরদার করে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী। প্রশাসনের দাবি, ধারাবাহিক অভিযানে দায়েশের বেশ কয়েকজন সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ সংগঠককে গ্রেপ্তার অথবা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। একই সময়ে উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পাঞ্জশির ও বাগলানসহ কয়েকটি উত্তরাঞ্চলে সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিল। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব অভিযানের মাধ্যমে বিদ্রোহীদের সাংগঠনিক ও সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাদাখশানসহ কয়েকটি এলাকাতেও বিচ্ছিন্ন সশস্ত্র তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে প্রশাসন। কোথাও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক ও অস্ত্র উদ্ধারের দাবি করা হয়েছে।
শুধু বিদ্রোহী গোষ্ঠী নয়, অপহরণ, চাঁদাবাজি, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত সশস্ত্র চক্রের বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। আফগান প্রশাসনের ভাষ্য, এসব পদক্ষেপের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সরকারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হয়েছে।
গত পাঁচ বছরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। যদিও দেশটি এখনও অর্থনৈতিক সংকট, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, মানবিক পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক সম্পর্কসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
আফগানিস্তানের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে শুধু সামরিক ও নিরাপত্তা সক্ষমতা নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিদায়ের পাঁচ বছর পর আফগানিস্তান তাই একদিকে যেমন নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে, অন্যদিকে দেশটির সামনে এখনো রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি নানা চ্যালেঞ্জ। তবে প্রশাসনের দাবি, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ধারাবাহিক প্রচেষ্টা মোকাবিলা করে দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।