সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের সাবেক প্রধান মুফতি আহমেদ হাসুনকে যুদ্ধাপরাধ, সাম্প্রদায়িক সংঘাত উসকে দেওয়া এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালতের ষষ্ঠ বিচারিক অধিবেশনে বিচারক ফখর আল-দিন আল-আরিয়ান এ রায় ঘোষণা করেন। শুনানির সময় আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থা ও সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন বিচার কমিশনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের নথি ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে বিচারক বলেন, বাশার আল-আসাদ সরকারের সময় সরকারি ফতোয়া কাঠামো ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামরিক অভিযান এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের পক্ষে ধর্মীয় বৈধতা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল। বিশেষ করে বেসামরিক আবাসিক এলাকায় ব্যারেল বোমা হামলাসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযানের পক্ষে ধর্মীয় বক্তব্য ও ফতোয়া দেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে।
মামলার তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়, আহমেদ হাসুন শুধু বক্তব্যের মাধ্যমে নয়, বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডে আর্থিক সহায়তার মাধ্যমেও সংঘাতকে উৎসাহিত করেছিলেন। বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা এবং সহিংসতা বাড়ানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তার বিষয়টিও মামলার প্রমাণে উঠে এসেছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০১১ সালে সিরিয়ায় সংঘাত শুরুর পর থেকে আহমেদ হাসুন আসাদ সরকারের বিভিন্ন সামরিক অভিযান ও বিরোধী মত দমনের পক্ষে অবস্থান নেন। তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড সংঘাতকে আরও উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
সিরিয়ায় দীর্ঘদিনের আসাদ শাসনের অবসানের পর দেশটিতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য রূপান্তরকালীন বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আহমেদ হাসুনের বিরুদ্ধে মামলাটি পরিচালিত হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে সিরিয়ায় বাথ পার্টির দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। এরপর সাবেক সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সহযোগীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
আহমেদ হাসুনের বিরুদ্ধে দেওয়া এই রায় সিরিয়ার রূপান্তরকালীন বিচারপ্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশটির সংঘাতকালে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে এ ধরনের বিচার ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।