৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:২৭
ভারতে রাজনৈতিক কার্যক্রমে শেখ হাসিনার নিষেধাজ্ঞা
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সে দেশের মাটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক তৎপরতা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক পার্লামেন্টারি কমিটিকে কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিপদাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার সভ্যতাগত মানবিক ঐতিহ্য থেকেই শেখ হাসিনাকে ভারতে থাকতে দেওয়া হয়েছে। তবে ভারত কঠোরভাবে এই নীতি মেনে চলে যে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না।
সম্প্রতি শেখ হাসিনা এ বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের যে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন, সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে, বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার করা আনুষ্ঠানিক আবেদন বা ‘প্রত্যর্পণ অনুরোধ’ প্রসঙ্গে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বিষয়টি বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে দেখছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
এ ছাড়া ভারতের সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করার সুপারিশ করেছে। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ভিসা সহজলভ্য না হওয়ায় জনগণের মনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি হচ্ছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত ২৮ জুন থেকে পুনরায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা চালু করেছে ভারত।