ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার এবং সীমান্তপথে পণ্য পরিবহন ও ট্রানজিট সহজ করার লক্ষ্যে বৈঠক করেছেন আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় তিন প্রদেশের গভর্নররা। বৈঠকে হেরাত, ফারাহ ও নিমরোজের সীমান্তপথ দিয়ে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়ানো এবং গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রসিংগুলো ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
হেরাত প্রদেশের গভর্নরের কার্যালয়ের বরাতে জানা গেছে, ইরানের ইসলামি পরামর্শক পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ মোহসেন জাঙ্গানেহর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে হেরাতের গভর্নর শেখ মাওলবি নূর আহমদ ইসলামজার, ফারাহর গভর্নর মোল্লা মুহাম্মদ হাফিজ মুজাহিদ এবং নিমরোজের গভর্নর মাওলবি আবদুল মানান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্ব
বৈঠকে হেরাতের গভর্নর ইসলামজার বলেন, অর্থনৈতিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে আফগানিস্তান উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। পাশাপাশি দেশটিতে বেশ কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি মাদক চাষ ও পাচার প্রতিরোধে আফগানিস্তানের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ইসলামজার বলেন, আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর সীমান্তপথ ব্যবহার করে বাণিজ্য ও ট্রানজিট সম্প্রসারণে ইরানের আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এসব পথে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পেলে উভয় দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
২৪ ঘণ্টা সীমান্তপথ চালু রাখার প্রস্তাব
বাণিজ্য ও ট্রানজিট কার্যক্রম আরও সহজ করতে ইসলাম কেলা, আবু নসর ফারাহি ও নিমরোজ সীমান্তপথ ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে আফগানিস্তান প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান হেরাতের গভর্নর।
সীমান্তপথগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সহযোগিতা বাড়াতে ইরানের অঙ্গীকার
বৈঠকে আফগান জনগণের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতা মুহাম্মদ মোহসেন জাঙ্গানেহ। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে আফগানিস্তান উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
এ সময় আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও ট্রানজিট সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে ইরানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে হেরাত, ফারাহ ও নিমরোজের সীমান্তপথ দিয়ে ট্রানজিট কার্যক্রম বাড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তপথে বাণিজ্য ও ট্রানজিট কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আফগানিস্তান ও ইরানের মধ্যে অর্থনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সূত্র: পাজওয়াক আফগান নিউজ