আফগানিস্তানকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা করতে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে শুরু হয়েছে আফগানিস্তানবিষয়ক মস্কো ফরম্যাটের অষ্টম পরামর্শ বৈঠক।
সোমবার (৫ অক্টোবর) শুরু হওয়া এ বৈঠকে আফগানিস্তান ছাড়াও চীন, ভারত, ইরান, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া বেলারুশ ও মিসরকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আফগান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকি। বৈঠকে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পাচ্ছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পর তালেবান সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি ওই প্রত্যাহারকে আফগানিস্তানে পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির অবসান হিসেবে উল্লেখ করেন।
লাভরভ বলেন, তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তারা সফলতার পরিচয় দিচ্ছে।
একই সঙ্গে আফগানিস্তান কিংবা দেশটির প্রতিবেশী কোনো রাষ্ট্রে ন্যাটোর সামরিক অবকাঠামো স্থাপনের সম্ভাবনাকে রাশিয়া মেনে নেবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের সামরিক উপস্থিতি অঞ্চলটিতে নতুন করে অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, মস্কো ফরম্যাটের এ বৈঠক আফগানিস্তানকে একটি স্বাধীন ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারেও এ সংলাপ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আফগানিস্তানবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি মুহাম্মদ সাদিকের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। এতে রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ফয়সাল নিয়াজ তিরমিজি এবং আফগানিস্তানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত উবায়দুর রহমান নিজামানিসহ দেশটির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়েছেন।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল আফগানিস্তানের পক্ষে। একই সঙ্গে অভিন্ন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি।
আফগানিস্তানের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই মস্কো ফরম্যাটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শমূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।