রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী হলিক্রস কলেজের সহকারী অধ্যাপক অনিমেষ সাহার বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, গর্ভধারণ এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আরও একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগও সামনে এসেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো হয়। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী গর্ভবতী হলে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনিমেষ সাহাকে হলিক্রস কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ ঘিরে উঠছে জবাবদিহির প্রশ্ন
অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করছে?
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষককে এক মাসের জন্য সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিল। একই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিয়ে-সংক্রান্ত বিষয়ে কলেজের কঠোর অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এ বিষয়ে হলিক্রস কলেজ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত বক্তব্য প্রকাশ্যে আসা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই অভিযোগে একই মানদণ্ডের দাবি
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থী নিপীড়নের অভিযোগ উঠলে প্রতিষ্ঠানটির ধর্মীয় বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনায় না এনে কি একই মানদণ্ডে তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত নয়?
বিশেষ করে কোনো মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে যে মাত্রায় আলোচনা, সমালোচনা ও জবাবদিহির দাবি দেখা যায়, অন্য কোনো ধর্মীয় বা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
কারও ধর্মীয় পরিচয়, প্রতিষ্ঠানটির পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান যেন তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত না করে—এমন দাবিও উঠেছে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। আবার অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও ন্যায়সংগত নয়।
তাই অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তদন্তের ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি উঠেছে।
একই সঙ্গে হলিক্রস কলেজ কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে প্রশ্ন—অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান কী এবং তদন্ত বা আইনগত পদক্ষেপ কতদূর এগিয়েছে?
ন্যায়বিচারের মূলনীতি হওয়া উচিত একটাই—অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় নয়; অভিযোগের সত্যতা ও আইনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হতে হবে।