মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, হামলায় আহত চার মার্কিন সেনাকে চিকিৎসা শেষে আবার দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শনিবার রাতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন দফায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকমের দাবি, জর্ডানে হামলার সঙ্গে জড়িত ইউনিটগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন অতীতেও একাধিক আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রাখা কঠিন।
এদিকে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে হামলার সময় তারা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। তবে এই দাবির বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৬ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি বন্দরকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে, ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সূত্র: বিবিসি