অনলাইন ডেস্ক | ২২ জুলাই, ২০২৬
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নিজ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সাথে ঘটনাটি অর্থ দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে মারধরের অভিযোগে মো. বাচ্চু (৫০) নামে সাবেক এক ইউপি সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
গত ১৬ জুলাই দুপুরে বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন তাকে কৌশলে বিদ্যালয়ের ৩য় তলার একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে শিশুটির হাতে ২০ টাকা গুজে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন অভিযুক্ত শিক্ষক।
পরবর্তীতে শিশুটি বাড়িতে ফিরলে তার শারীরিক অস্বাভাবিকতা দেখে স্বজনরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি প্রধান শিক্ষকের এই অপকর্মের কথা তার পরিবারকে জানায়।
ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ও হামলা
ঘটনাটি জানার পর ভুক্তভোগীর পরিবার বিচারের আশায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চুর শরণাপন্ন হলে তিনি সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, বাচ্চু মেম্বার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গতকাল রাতে ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান এবং ১০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি চেপে যাওয়ার প্রস্তাব দেন।
শিশুটির পরিবার এই প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানালে বাচ্চু মেম্বার ও তার অনুসারীরা ভুক্তভোগীর স্বজনদের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের এলোপাথাড়ি মারধর করে।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ
বিষয়টি নিশ্চিত করে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন:
“গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক মহিউদ্দিন ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি এবং বাচ্চু মেম্বার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার সহযোগী আসামি। বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”
গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন টবগী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছেলামত মাঝির ছেলে এবং বাচ্চু মেম্বার হাসাননগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও মো. রফিকের ছেলে।